জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা কমল এওয়াজবদলের শর্ত না মানায় গত ২৭ মার্চ তারিখে জিল্লুর রহমান ভুট্টো বসতবাড়ীর উত্তর পাশে নিজ জায়গা পুনরুদ্ধার কল্পে দখল নিতে গেলে কমল গং বাধা প্রদান করে। এ ঘটনার পর রিয়াজুল হক কমল ও জিল্লুর রহমান ভুট্টো মুকসুদপুর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসল তথ্য জানতে পেরে তারা উভয় পক্ষকে এওয়াজ বদলের শর্ত মানতে অনুরোধ করে। তবে রিয়াজুল হক কমল কোনো শর্ত মানতে আগ্রহী নন বলে সকলকে সাফ জানিয়ে দেন ।
এ ব্যাপারে জানার জন্য রিয়াজুল হক কমলের সাথে বারবার আলাপ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জায়গার মালিক জিল্লুর রহমান আরও বলেন,আমার পিতা বেঁচে নাই। মা ঢাকায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন। আমার একমাত্র ভাই বিদেশে থাকেন। এ অবস্থায় আমাকে একা পেয়ে কমল গং বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। আমার খালু মরহুম এম. মনসুর আলী জীবদ্দশায় ২২ বছর গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে আমি তার একনিষ্ঠ কর্মী ছিলাম। এখনও আমি বিএনপির একজন কর্মী। এ কারনে আওয়ামী লীগ নেতা কমল আমাকে বিগত সময়ে বারবার লাঞ্চিত ও হয়রানী করেছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে । জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণে বাধা দিলে এক পর্যায়ে সে শরীকদের এনে আমাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পরে শরীকদের চাপে এবং কমলগংদের উপুর্যুপরি হুমকিতে ভীত হয়ে এওয়াজবদলের মৌখিক শর্তে জায়গা ছাড়তে রাজি হই আমি। কিন্তু রাস্তা নির্মান কাজ শেষ হওয়ার পর কমল এওয়াজ বদলের শর্ত মানতে আগ্রহ প্রকাশ না করায় আমার বিশেষ ক্ষতি সাধন হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে রিয়াজুল হক কমল,তার ভাই কাজল,স্ত্রী শাহেলা শালু,বোন শিল্পী ও রুহী এবং আত্মীয় তুলশি মিলে আমাকে লাঞ্চিত করে। সে সময় আমার ইতালি প্রবাসী বড় ভাই বাংলাদেশে এসে আলোচনা সাপেক্ষে সমস্যার সমাধান করার প্রস্তাব দিলেও কমলগং আলোচনা সভায় উপস্থিত হন নাই।
গত ২৭ মার্চ তারিখে কমল ও তার দোসররা আমার জায়গার উপর নির্মিত রাস্তার উপর দাড়িয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাননাশের হুমকি দেয়। এরপর আমি মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
বিষয়টি নিয়ে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রমহীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির মোল্লার সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। রিয়াজুল হক কমল আত্মীয় সূত্রে আমার ভাতিজা। তবে তাকে অনুরোধ করলেও সে আমার কোনো কথা শোনেনা।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিকট সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জিল্লুর রহমান ভুট্টোর নিকট থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মালিকানাধীন জমিতে রাস্তা বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে এওয়াজবদলের শর্ত থাকলে তা উভয় পক্ষের মেনে চলা উচিত।