ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের রেনীনগর আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অভিভাবক ও জমিদাতা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। একাংশের অভিভাবক ও স্থানীয়রা কলেজ শিক্ষক ও জমিদাতা মো. মফিজুর রহমান আমিনকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চাইলেও অপরদিকে সাবেক সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেনও এ পদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অভিভাবকদের দাবি, মো. মফিজুর রহমান আমিন বিদ্যালয়ের নামে ব্যক্তিগতভাবে ৮ শতাংশ জমি দান করেছেন। তিনি এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং একজন কলেজের প্রভাষক হওয়ায় বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করতে পারবেন। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকার বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তির পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী কাউকে সভাপতি করা হলে বিদ্যালয়ের জন্য তা বেশি কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান আমিনের জ্যেষ্ঠ পুত্র মাহবুবুর রহমান বলেন, ওয়ারিশ সূত্রে সাতজন জমিদাতা থাকলেও মফিজুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত ৮ শতাংশ জমি দান করেছেন। তিনি সভাপতি হলে বিদ্যালয়ের জন্য ভালো হবে বলে মত দেন।
২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. কবির হোসেন দুলাল বলেন, গত ৭ জুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অভিভাবক সদস্য, বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল এবং তিনি সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সভাপতি যেই নির্বাচিত হোন না কেন, তার কোনো ব্যক্তিগত আপত্তি নেই। তিনি আরও জানান, ৭ জুনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত তিনি খসড়া আকারে লিখে রেখেছিলেন, তবে সেটিতে তার স্বাক্ষর ছিল না।
সাবেক সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি পূর্বেও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার সময়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তিনি জানান, এখনও অনেক অভিভাবক তাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান।
অন্যদিকে মো. মফিজুর রহমান আমিন বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের সরাসরি জমিদাতা এবং অধিকাংশ জমিদাতার সমর্থন তার পক্ষে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমঝোতা বৈঠকের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।