ফরিদপুরের মধুখালীতে দীর্ঘ চার দশক (৪০ বছর) পর অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাল। জবরদখল উচ্ছেদ করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন মধুখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্তের ভূয়সী প্রশংসা।
আজ (মঙ্গলবার, ২১ জুলাই) সকালে মধুখালী পৌরসভার পেঁয়াজ বাজার এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে চন্দনা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এই সরকারি খালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে স্থায়ী ও অস্থায়ী নানা স্থাপনা গড়ে তুলেছিল দখলদারেরা।
উচ্ছেদ অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত।
এ সময় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবুল বাশার, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, সাংবাদিকবৃন্দ ও এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত সাংবাদিকদের জানান, “প্রায় ৪০ বছর ধরে পেঁয়াজ বাজারের এই খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় মহাসড়কের নিচের কালভার্টের মুখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে রাস্তার দক্ষিণ পাশের বাসিন্দারা মারাত্মক জলবদ্ধতার শিকার হতেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সেখানে কৃত্রিম বন্যা ও হাটের দিনগুলোতে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হতো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্যারের নির্দেশনায় আমরা এ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি।”
এ বিষয়ে মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন, “এই উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে পেঁয়াজ বাজার এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। এতে হাটের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতা উভয়েই উপকৃত হবেন।”
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ জনগণ এই উদ্যোগকে সানন্দে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বহুদিন ধরে প্রভাবশালী দখলদারেরা খালটি ভরাট করে দখল করে রেখেছিল। ফলে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। উচ্ছেদের পর পুরো এলাকা যেন নতুন করে শ্বাস ফেলার সুযোগ পেয়েছে।
উল্লেখ্য, মধুখালীতে যোগদানের পর থেকেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত একের পর এক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। ভূমি অফিসে সেবা গ্রহীতাদের মাঝে তিনি সৃষ্টি করেছেন নতুন আশা ও আস্থা—যার ফলে দ্রুত ভূমি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া জবরদখল রোধ, নদীতে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বাল্যবিবাহ রোধে তাঁর কঠোর ভূমিকা উপজেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।