ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে চারজনেরই মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জীবিত থাকা একমাত্র নবজাতকটির অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে প্রসূতি মা বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন।
আজ (শুক্রবার, ৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিপ্রা ব্যানার্জি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হাসান শেখের স্ত্রী চাঁদনী আক্তার গর্ভধারণের পর গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই) দুপুরে প্রসববেদনা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) মাধ্যমে তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ মোট পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন।
চিকিৎসকেরা জানান, প্রসবের পরপরই একটি নবজাতক মারা যায়। বাকি চার নবজাতকের শারীরিক অবস্থা দুর্বল থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গতকাল রাত থেকে আজ শুক্রবার সকালের মধ্যে চিকিৎসাধীন আরও তিন নবজাতকের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে ডা. শিপ্রা ব্যানার্জি বলেন, “একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে চারজনই মারা গেছে। বর্তমানে জীবিত থাকা একমাত্র নবজাতকটির শারীরিক অবস্থাও সংকটাপন্ন। তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে, একসঙ্গে চার সন্তানের মৃত্যুতে পরিবারটিতে আনন্দের পরিবেশ বিষাদে পরিণত হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নবজাতকদের হারালেও প্রসূতি মা চাঁদনী আক্তার বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে আছেন।