বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝেও। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ।
আজ (বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই) সকালে ১০:২০ মিনিটে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর বটতলায় অবস্থিত পাঠশালা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের উদ্যোগে এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। মাঠজুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা ও দর্শকদের করতালি, যার মধ্য দিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের আদলে সাজানো দুটি দল মাঠে মুখোমুখি হয়। রোমাঞ্চকর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয় ব্রাজিল।
খেলার শুরু থেকেই দুই দলের খুদে ফুটবলাররা আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে। প্রথমার্ধেই দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোলে দলকে এগিয়ে নেন ব্রাজিলের খুদে তারকা সাদ। পিছিয়ে পড়ে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা শিবির, এবং শীঘ্রই দারুণ এক গোলে ব্যবধান ঘুচিয়ে দেন দলের তারকা খেলোয়াড় শামীম।
তবে ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে—আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের একটি আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের জয়, আর মাঠজুড়ে উল্লাসে মেতে ওঠে সেলেসাও-সমর্থকরা। দলগতভাবে ট্রফি জিতলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আর্জেন্টিনার গোলদাতা শামীম নির্বাচিত হন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়।
খেলা শেষে পাঠশালা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রোকনউদ্দিন রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বকাপ ফুটবলের এই আমেজে খুদে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিফাত আহমেদ, রাসু চৌধুরী, রিনা বিশ্বাস, মো. খালিদ হাসান তুহিন, সালমা খানম, ইয়ারুন নাহার রুনা, পিংকি আসমা, শিল্পী লামিয়া, হোসনেয়ারা প্রমুখ।
এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মাঠে উপস্থিত থেকে খুদে ফুটবলারদের এই প্রাণবন্ত লড়াই উপভোগ করেন। সমাপনী বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।