গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সৌদি আরবে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়ার পরও সৌদি আরবে পাঠানো হয়নি ভুক্তভোগীর জামাতাকে। পরে টাকা ফেরত চাইলে দেওয়া হচ্ছে ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি।
ঘটনাটি নিয়ে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাবিনা বেগম।
অভিযোগে তিনি মুকসুদপুর উপজেলার ঘুনশী এলাকার শুকুর আলী মৃধা, ওরফে সুমনের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়া এবং পরবর্তীতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে ছাবিনা বেগমের বাড়িতে যান শুকুর আলী মৃধা।
এ সময় তিনি ছাবিনা বেগমের জামাতা রায়হান শেখকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে কয়েক ধাপে মোট ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তবে পরবর্তীতে রায়হান শেখকে সৌদি আরবে পাঠাতে ব্যর্থ হন অভিযুক্ত ব্যক্তি।
এরপর টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এমনকি টাকা ফেরত না দিয়ে মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী বলেন—
*“কিস্তি করে টাকা তুলে দিয়েছি। এখন কিস্তি দেব, নাকি সংসারের আহার জোগাব—সেই চিন্তায় আছি।”*
তার ভাষায়, টাকা দেওয়ার পর এখন তিনি চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।
শুধু রায়হান শেখ নন, বিদেশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর দাবি, তাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এদিকে, বিদেশে চাকরির প্রলোভনে টাকা লেনদেনের মতো ঘটনায় প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।