আগামী ১৬ আগস্ট পূর্ণ হতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ৬ মাস। সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৬ মাসের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রশাসনিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে কাজে অবহেলা, মন্থর গতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ইমেজ ক্ষুণ্ন হওয়া একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছাঁটাই কিংবা দফতর পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। একই সাথে শরিক ও সমমনা দলগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার আভাসও পাওয়া যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে জোট ও সমমনা দলগুলোর মধ্যে অবস্থান শক্তিশালী করা এবং রাজপথের ত্যাগের মূল্যায়নের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বিশেষ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে ‘পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী’ হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জোর দাবি তুলেছে দলটির অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ।
‘নুরুল হক নূরকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই’
বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-ধর্মীয় সম্প্রীতি বিষয়ক সম্পাদক যুবনেতা ইব্রাহিম মোল্লা এক জোরালো বক্তব্যে বলেন:
“২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান—প্রতিটি আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের আপোষহীন ও সর্বাত্মক ভূমিকা দেশের মানুষের কাছে সর্বজনবিদিত। সমমনা জোটের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে গণঅধিকার পরিষদ অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুসংগঠিত একটি রাজনৈতিক দল, যার শীর্ষ নেতার পরিচিতি আজ দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুপ্রতিষ্ঠিত।”
তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই পরিমাপের একজন জনপ্রিয় নেতাকে কেবল প্রতিমন্ত্রী পদে দায়িত্ব দেওয়া সমীচীন হবে না। রাজপথের ত্যাগের প্রতিফলন ঘটিয়ে নূরকে যেকোনো মূল্যে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সতর্কবার্তা
যুবনেতা ইব্রাহিম মোল্লা তার বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশেও বার্তা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে নুরুল হক নূরকে যদি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্বের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন না দেওয়া হয়, তবে দলীয় স্বার্থ ও সম্মানের খাতিরে গণঅধিকার পরিষদের উচিত হবে এই জোটে আর না থাকা।
মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন ও শরিকদের প্রত্যাশা
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৬ মাসের কাজের গতি ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। টেকনোক্রেট ও শরিক দলের অভিজ্ঞ এবং রাজপথের ত্যাগী নেতাদের গুরুত্ব দিয়েই পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে নতুন মন্ত্রিসভা। ১৬ আগস্টের পর খুব শীঘ্রই এই রদবদলের চূড়ান্ত রূপ দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নুরুল হক নূরের অনুসারী ও যুব অধিকার পরিষদের এমন কঠোর অবস্থান নতুন মন্ত্রিসভার রূপরেখা নির্ধারণে শরিক দলগুলোর চাপ ও জোট রাজনীতির সমীকরণকে আরও চাঞ্চল্যকর করে তুলেছে।