গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজলী ইউনিয়নের ভোজরগাতী গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বিপুলসংখ্যক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়।
গতকাল গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত ও সংরক্ষিত নিষিদ্ধ এসব জাল জব্দ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, চায়না দুয়ারি জালের ফাঁস অত্যন্ত ছোট হওয়ায় এতে বড় মাছের পাশাপাশি নির্বিচারে দেশীয় মাছের পোনা ও ছোট মাছ আটকা পড়ে। ফলে জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাবে দেশীয় মাছের বিভিন্ন প্রজাতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, মাছ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিজ আমিষের উৎস। দেশীয় মাছের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা কমে গেলে ভবিষ্যতে প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাব বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হতে পারে।
প্রশাসনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করার কথা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেই চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য নিষিদ্ধ জালের উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের উৎস চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
তাদের প্রত্যাশা, দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।