গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ ফিস্টের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে পরিবেশিত খাবারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, পাঁচটি আবাসিক হলে পরিবেশিত ডালের মধ্যে মুরগির নাড়িভুঁড়ি পাওয়া গেছে। এছাড়া পরিবেশন করা কিছু সিদ্ধ ডিমও পচা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তারা। প্রত্যাশিত মানের খাবার না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী খাবার না খেয়ে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান।
তিতুমীর হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী রাকিউল আলম রানা বলেন, বিশেষ দিবস উপলক্ষে ভালো মানের খাবারের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু পরিবেশিত খাবারের মান এতটাই খারাপ ছিল যে তা খাওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ঘটনায় তিতুমীর, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বনলতা ও অপরাজিতা হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা ভবিষ্যতে আবাসিক হলগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত বলেন, হলের খাবারের মান নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ তার নজরে এসেছে। বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে জানান, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের আশ্বাসের পরও শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সব আবাসিক হলে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।