গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশুড়িয়া গ্রামে রাতের আঁধারে ঘেরের মাছ চুরির চেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। আটক দুজন হলেন মোল্লাহাট এলাকার গ্রাম পুলিশ ফারুক ও কিরু শেখ। স্থানীয়দের দাবি, গতকাল রাত ১১টার দিকে সন্দেহজনকভাবে ঘের এলাকায় অবস্থান করায় তাদের আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ বাঁশুড়িয়া গ্রামে সম্প্রতি একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। চুরি প্রতিরোধ ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে স্থানীয়রা রাতে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতেও কয়েকজন এলাকাবাসী এলাকায় পাহারায় ছিলেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঘের এলাকায় দুই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ওই দুই ব্যক্তি ঘের থেকে মাছ চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে তাদের কাছে মাছ বা চুরির কোনো সরঞ্জাম পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, প্রথমে তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তাদের একজন গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা করা হয়।
এলাকাবাসীর পক্ষে তুহিন শেখ, মুরছালিন শেখ, নিয়ামত শেখ, রাজিব শেখ ও সুমন শেখ বলেন, “আমরা তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করি। পরে জানতে পারি তাদের একজন গ্রাম পুলিশ। এরপর আমরা তাদের পরিবারের সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে আনি। তাদের কাছে দুইজনকে হস্তান্তর করার সময় পুরো বিষয়টি ভিডিও করে রাখা হয়েছে, যাতে পরবর্তীতে তারা অস্বীকার করতে না পারে।”
তারা আরও বলেন, “আমাদের এলাকায় প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটছে। এ কারণে আমরা বাধ্য হয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। ভবিষ্যতে এলাকায় কোনো ধরনের চুরি হলে বা কেউ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় চুরি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও ঘেরগুলোতে টহল জোরদার করা হলে চুরির ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা। এ ঘটনায় আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।