দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সিংড়া–রসুলপুর বালিয়া নদীর ওপর নবনির্মিত মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর সেতুটি চালু হওয়ায় দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় উপজেলার সিংড়া বৈদির বাজার এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেতুটির উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম।
সেতুটি চালু হওয়ায় ভোগনগর ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহেদুল ইসলাম মাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত জুলিয়াস জুয়েল, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি ফজলে আলম শাহিন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তানভীর চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশরাফ উদদৌলা খান বাবু, উপজেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য সুবাস দাস, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শাহাজাহান সিরাজ শিপন উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রেজাউল করিম মনিসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম এমপি বলেন, দেশ এগিয়ে যাবে, বিএনপি জনগণের দল। বীরগঞ্জ-কাহারোলে এই সরকারের আমলেই ব্যাপক উন্নয়ন হবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, গতকাল আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। সেখানে বীরগঞ্জ-কাহারোলের বিভিন্ন উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০ কিলোমিটার রাস্তার বাজেট হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৩০০ কিলোমিটার রাস্তার জন্য আবেদন দেওয়া হয়েছে। এমপি মনজুরুল ইসলাম আরও বলেন, বীরগঞ্জের স্লুইসগেট, ডাক্তারখানার মাঠ এবং সিংড়া জাতীয় উদ্যানকে ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয় খুব দ্রুত বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বীরগঞ্জ-কাহারোলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাজিউর রহমান রাজু ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোপাল দেব শর্মাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
দীর্ঘদিন পর সেতুটি চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা গেছে। তারা সেতুটি নির্মাণ ও উদ্বোধনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত এর সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।