ব্যবসায়িক পাওনা ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং নিজস্ব প্রাইভেট কার ফেরত না দিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বানোয়াট অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ মুকুটের বিরুদ্ধে গতকাল (বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সৌরভ মোল্লার বোন সীমা আক্তার। এ সময় সৌরভ মোল্লার বাবা আবুল কালাম মোল্লা এবং স্ত্রী সুমাইয়া রহমানসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে সীমা আক্তার জানান, তাঁর ভাই মো. সৌরভ মোল্লার সঙ্গে কানাইপুর বাজারের মৃত হাসান বিশ্বাসের ছেলে শামীম আহমেদ মুকুটের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা যৌথভাবে একটি ইটভাটা পরিচালনা করেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের সুবাদে সৌরভ মোল্লা তাঁর অংশীদার মুকুটের কাছে ইটভাটার ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং বিগত চার বছরের লভ্যাংশ পাওনা রয়েছেন। এ ছাড়া সৌরভের কেনা একটি প্রাইভেট কার মুকুটের বাড়িতে রাখা আছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি পাওনা টাকা এবং গাড়িটি ফেরত চাইলে মুকুট নানা ধরনের তালবাহানা শুরু করেন। উপায় না পেয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য সৌরভ মোল্লা মুকুটের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মুকুটের মা সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে সৌরভ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের তাঁদের বাড়িতে আসার অনুরোধ জানান।
সীমা আক্তার বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে সৌরভ মোল্লা মুকুটের বাড়িতে যান। সেখানে সমঝোতা বৈঠকে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মুকুটের লোকজন অতর্কিতভাবে সৌরভ ও উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালায়। সে সময় তাঁরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং পাওনা টাকা ও গাড়ি না দেওয়ার চক্রান্ত হিসেবে মুকুট নিজের বাড়িতে ভাঙচুরের নাটক সাজান। পরবর্তী সময়ে সৌরভ মোল্লাসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী মুস্তাক, আবদুল্লাহ সরদার বাবু, মাহিদুল ইসলাম স্মরণ, সাইদুল ইসলাম হৃদয় ও জাহিদ খাঁসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর কানাইপুরের উক্ত ঘটনাটির একটি ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ‘ডাকাতি’ হয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হয়, যা জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভুক্তভোগী পরিবার এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।