গোপালগঞ্জের চান্দা বিলের প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে কর্মসংস্থানের সংকটে পড়া হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জন্য পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের মৌসুমি কাজ এখন আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। বর্ষার পানিতে বিল এলাকায় পাট জাগ দেওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ সময়টায় ব্যস্ততা বেড়েছে শ্রমিকদের।
পাট জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও ধোয়ার মতো বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন শ্রম দিচ্ছেন স্থানীয় নারী-পুরুষ। এসব কাজে একজন শ্রমিক দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। বর্ষাকালে এই মৌসুমি আয়ের ওপর নির্ভর করেই অনেক পরিবারের সংসারের খরচ চলছে।
স্থানীয়দের মতে, পাট চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে শ্রম ও সময় বেশি লাগলেও বর্তমান বাজারদর কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ করছে না। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, প্রতি মণ পাটের দাম অন্তত ৪ হাজার ২০০ টাকা হলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তারা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারবেন। এ বিষয়ে সরকারের কাছে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, গত জুলাই মাসে জেলায় ২৬ দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে মোট ৬৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার কাজও সহজ হয়েছে।
চান্দা বিলের মানুষের কাছে বর্ষা একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি করে, অন্যদিকে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সাময়িক আয়ের সুযোগও এনে দেয়। বিলের পানিকে কাজে লাগিয়ে পাটের মৌসুমি কাজে যুক্ত শ্রমিকরা এই সময়ে বাড়তি আয় করছেন। ফলে পাটের কাজ ঘিরে বর্ষাকালে সচল থাকছে বহু পরিবারের জীবিকা ও সংসারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম।
স্থানীয় শ্রমজীবীদের প্রত্যাশা, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষক ও শ্রমিক—উভয়েই উপকৃত হবেন। পাশাপাশি চান্দা বিলকেন্দ্রিক পাট প্রক্রিয়াজাতকরণে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।