গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) প্রশাসন বিভিন্ন বিভাগের ১৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থায়ী চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনকে শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার কারণে এবং একজনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক অসদাচরণের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাহবুবুল আলম প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও উল্লেখ করা হয়েছে।
চাকরিচ্যুত ১৬ শিক্ষক হলেন— ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার এবং প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার ও উপমা দাস। এছাড়া রয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দেবব্রত পাল, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অধরা তাহসিন, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জল হুসাইন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাবিয়া খাতুন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে অবস্থান করেন এবং শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক লিখিত নোটিশ পাওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগদান করেননি। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের ছুটিকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত সকল আর্থিক সুবিধা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ফেরত দিতে হবে।
অন্যদিকে, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন এবং নৈতিক অসদাচরণের অভিযোগে পৃথক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।