গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষীর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আহাদনুর বাদলের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর মায়ের সাথে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ননীক্ষীর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আহাদনুর বাদল ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিলির মা মিতা বেগমের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। মিতা বেগম উপজেলার গুনহার গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী রিজাউলের স্ত্রী। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্য এলে স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
পরে বিষয়টি নিয়ে ননীক্ষীর উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ননীক্ষীর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ রনি আহমেদ, রশিদ স্যার, বাদশা আলম বসু, ওমর তালুকদার, বকুল মেম্বারসহ এলাকার আরও বেশ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একটি জরুরি মিটিং হয়।
এ বিষয়ে জানতে ননীক্ষীর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আহাদনুর বাদলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে এলাকার কিছু লোক মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়েছে আমি মিতা নামে কাউকে চিনি না।
মিতা ও তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে কাউকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।
ননীক্ষীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ রনি আহমেদ জানান, মৌখিক অভিযোগ পেয়ে আমরা বিষয়টি নিয়ে স্কুলে গিয়ে ছিলাম । কিন্তু ঘটনার কোন লিখিত অভিযোগ বা সঠিক কোন তথ্য না পেয়ে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি।

অভিযুক্ত ননীক্ষীর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আহাদনুর বাদল
এ ছাড়াও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে জে.কে.এম.বি মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরি করা সময়ে এই ধরনের আরো কয়েকটি অভিযোগ ততকালিন সময়েও উঠেছিল। কিন্তু শিক্ষক আওয়ামী লীগের পদধারী হওয়ায় ঐ সময় সকল অভিযোগ থেকে বেচে যান বলে জানিয়েছেন জে.কে.এম.বি মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
এলাকার সচেতন সমাজ ও অভিভাবকেরা স্কুলের মতো একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।