ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত (২৭) নামে এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আজ (২৩ জুন মঙ্গলবার) দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ‘সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন (বিপি-৮০০৬১০৬১৮৫) অফিসার ইনচার্জ, ডিবি, সদর জোন, ফরিদপুরকে প্রশাসনিক কারণে ডিবি সদর জোন হতে প্রত্যাহার করা হলো।’
আদেশে বলা হয়েছে, ‘বর্ণিত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে মঙ্গলবার দুপুর ১টার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম জানান, প্রশাসনিক কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এর আগে ২০ জুন বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ ছাত্রলীগ কর্মী প্রান্তকে আটক করে। সে সময় মায়ের সামনেই তাঁকে মারধর করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ ইশতিয়াককে আটক করে। এ সময় তার মায়ের সামনেই তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন স্বজনরা। পরে রোববার (২১ জুন) সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিবি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার ইশতিয়াকের জানাজার আগে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৪০ মিনিট ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে নিহতের পরিবারের অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিনজন বিএনপি নেতা বক্তব্য দেন। তারা ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।