ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে সুমন শেখ (২০) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের ঘটনায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ ও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। আজ (বুধবার, ১ জুলাই) দুপুরে এবং সন্ধ্যায় পৃথকভাবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজিব মাতুব্বরকে দল থেকে বহিষ্কার এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সজিব মাতুব্বর পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে ১৭ জনকে আটক করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি সাময়িক শান্ত হয়।
তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এলাকাবাসী আবারও মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে রাত সোয়া ৯টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, গতকাল মঙ্গলবার রাতে দুই গ্রামের যুবকদের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে সজিব মাতুব্বর ঘটনাস্থলে এসে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এতে সুমন শেখ গুরুতর আহত হন।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জোবায়ের নাদিম জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সুমনের মুখের চোয়াল দিয়ে একটি শটগানের গুলিসদৃশ বস্তু ভেদ করে মাথার অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।”
বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্যা বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে বহিষ্কারের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। জেলা কমিটি ও দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে বসবেন। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে আমরা প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মিঠু জানান, তাঁরা বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দিপু বলেন, “আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, নিহত সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার রাতে কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের তিন যুবককে তুলে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষের সূত্র ধরেই আজ দিনভর উত্তপ্ত ছিল ভাঙ্গা এলাকা। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।