ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নে রেললাইনের উন্নয়ন কাজের অজুহাতে এক অসহায় বিধবা বৃদ্ধার বসতবাড়ি উচ্ছেদের চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে।
আজ (শনিবার ১১ জুলাই) সকালে উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মসলন্দপুর হিন্দু পাড়া গ্রামে নিজ কাচারি ঘরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এই অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা সালেহা বেগম বলেন,”বিগত ৬০-৭০ বছর ধরে আমার স্বামী এই ভিটাবাড়িতে বসবাস করেছেন। আমি আমার ছয় ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এই বসতবাড়িতেই জীবন পার করছি। কিন্তু সম্প্রতি মীর আক্তার হোসেন কোম্পানির লোকজন এসে আমাদের বারবার বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন কোথায় যাব?”
ভুক্তভোগী বৃদ্ধার ছেলে পেশায় দিনমজুর ইয়াসিন বিশ্বাস ও চা-বিক্রেতা সাদিক বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, “আমরা এই মাটিতেই জন্ম নিয়েছি। বাবা মারা যাওয়ার পর মা অনেক কষ্ট করে আমাদের এই বাড়িতেই বড় করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে মীর আক্তার কোম্পানির কর্মকর্তারা স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির মদদে আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। আমরা আমাদের পৈতৃক ভিটা রক্ষার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
উচ্ছেদের এই তৎপরতাকে দুঃখজনক ও অন্যায় আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মো. বাদশা বিশ্বাস। তিনি বলেন, “সালেহা বেগম অত্যন্ত নিরীহ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করা এই বসতভিটা থেকে তাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,”মীর আক্তার কোম্পানি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিকভাবে এই জায়গার ওপর দাবি তুলছে। তারা মূলত সরকারের একটি প্রকল্পের ঠিকাদার মাত্র, কোনো ভূমির মালিক নয়। জায়গাটি যদি সরকারি বা রেলওয়ের হয়েও থাকে, তবে আইনি প্রক্রিয়া রেল কর্তৃপক্ষ দেখবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে কাউকে উচ্ছেদের হুমকি দিতে পারে না। তাদের এই উদ্যোগ মোটেও সমীচীন নয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের প্রকল্প প্রকৌশলী সুকুমার বিশ্বাস হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে কোনো পরিবারকে উচ্ছেদ বা হুমকির ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পূর্ণ বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতাধীন। রেল কর্তৃপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দেবে এবং আমাদের যে নকশা (অ্যালাইনমেন্ট) সরবরাহ করবে, ঠিকাদার হিসেবে আমরা কেবল সে অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য।”
রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই অসহায় পরিবারটিকে উচ্ছেদের এই তৎপরতায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই রক্ষায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছে।