“বিনা বেতনে তিন থেকে ত্রিশ বছর, মানুষ বাঁচে কত বছর!”—এমনই এক চরম মানবিক ও ক্ষোভের স্লোগান বুকে নিয়ে ফরিদপুরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এ আই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির সদস্যরা।
কাজের ন্যায্য মজুরি ও যৌক্তিক পারিশ্রমিকের দাবিতে গত ১লা জুলাই ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ (বুধবার,০৮ জুলাই) সকাল ১১:৩০ মিনিটে জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ফরিদপুরে এই অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এ আই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতি, ফরিদপুর জেলা শাখার ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত টেকনিশিয়ানরা অংশ নেন। তাদের হাতের ব্যানারে লেখা ছিল “কাজের ন্যায্য মজুরী দাও, নইলে মোদের ছেড়ে দাও”।
আন্দোলনরত টেকনিশিয়ানরা জানান, তারা দীর্ঘ বছর ধরে কোনো প্রকার বেতন বা স্থায়ী পারিশ্রমিক ছাড়াই মাঠ পর্যায়ে গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননসহ প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে আসছেন। বছরের পর বছর ধরে চলা এই চরম বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি যৌক্তিক পারিশ্রমিক কাঠামো নির্ধারণের দাবি জানান তারা। অন্যথায়, ১লা জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘট দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবিরত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
ধর্মঘটে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ফরিদপুর জেলা টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ আক্তার হোসেন, রাজবাড়ী জেলা এ আই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাচ্চু মোল্লা এবং সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল খান দোলন। এছাড়াও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন,গোপালগঞ্জ জেলা এ আই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইরাদুল হক।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন,”মাঠ পর্যায়ে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নে সরকারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার এই টেকনিশিয়ানরা। কিন্তু বছরের পর বছর সেবা দেওয়ার পরও তাদের ভাগ্য বদলায়নি। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা না হলে এই বিশাল কর্মী বাহিনী মাঠ পর্যায়ের সব ধরনের কৃত্রিম প্রজনন সেবা দেওয়া থেকে বিরত থাকবে, যার ফলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
অবস্থান ধর্মঘট চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুচিন্তিত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আন্দোলনকারীরা। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত টেকনিশিয়ানদের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত ছিল।