ফরিদপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান ও ভাগ্যোন্নয়নের জন্য জেলাটিকে দ্রুত বিভাগ ঘোষণা এবং পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে ফরিদপুরে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আজ (শনিবার, ৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে শহরের চকবাজার ও কাপুড়ে পট্টি সংলগ্ন থানা রোড (জনতা ব্যাংকের মোড় থেকে ব্যাংক এশিয়ার মোড়) এলাকায় নাগরিক কমিটি আয়োজিত ‘নাগরিক আলোচনা ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাস্তা আটকে আয়োজিত এই মহাসমাবেশে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে।
ফরিদপুরের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি এই প্ল্যাটফর্ম থেকে আপনাদের আহ্বান জানাব, আপনারা ফরিদপুরের ব্যবসায়ীরা মিলে ফরিদপুর বিভাগের একটি বিজনেস প্ল্যাটফর্ম বা ব্যবসায়ী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুন। সেই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমাদের ছোট ব্যবসায়ী, মাঝারি ব্যবসায়ী, নারী উদ্যোক্তা এবং সব পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো আমরা ফরিদপুর বিভাগ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে পারি।”
বক্তব্যে ফরিদপুরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে শামা ওবায়েদ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “এই ফরিদপুর আমাদের সকলের। আমার ফরিদপুর, আপনার ফরিদপুর, আমাদের সবার ফরিদপুর। এটা কারও একার ফরিদপুর নয়। সুতরাং এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান— সকল ধর্মের মানুষ এবং সকল দলের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।” আজকের মঞ্চে সব দলের প্রতিনিধিত্ব থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে জেলার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিগত আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ধরে রাখার তাগিদ দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের একটি ভুলের কারণে ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। আমাদের যে কোনো ধরনের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি থেকে দূরে থাকতে হবে।” মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গড়তে প্রতিটি বাড়ি, গ্রাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিকেল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, ফরিদপুর জেলা পরিষেদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, গত নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত পরাজিত প্রার্থী আবদুত তাওয়াব, ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম, জমিয়তে ওলামা দলের যুগ্ম সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান, করিম গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর মিয়া, ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস লারাম লাল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীমউদ্দিন মৃধা প্রমুখ।
এছাড়াও জমিয়তে ওলামা দলের যুগ্ম সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান, করিম গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর মিয়া, ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম লাল এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীমউদ্দিন মৃধাসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, খন্দকার ফজলুর হক টুলু এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। বক্তারা প্রত্যেকেই ফরিদপুরের সার্বিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।