গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চাঁদাবাজির মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি থেকে মামলাটিকে হয়রানিমূলক উল্লেখ করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত শিরালী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, সাংবাদিক পলাশ সিকদার, টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আফজাল হোসেন এবং কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সহসভাপতি কামরুল হাসান (চান মিয়া) সিকদারসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতারা।
বক্তারা বলেন, জনস্বার্থে সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টির শামিল বলে তারা মন্তব্য করেন।
তারা আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কোটালীপাড়ার একটি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন ৭ জুলাই ওই প্রতিবেদনের জেরে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
এলজিইডির একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকার ব্যয়ে কোটালীপাড়ার শিকিরবাজার স্কাউট ভবন থেকে পূর্ব চিত্রাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২৬৫ মিটার সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে গণমাধ্যমেও তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।