ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় সরকারি খাসজমি, খাল ও হাটবাজার দখলমুক্ত করতে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ভূমিসেবা সহজীকরণ, অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ও মাদকবিরোধী অভিযান এবং ভেজালবিরোধী কার্যক্রমে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওশনা জাহান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত একক ও যৌথভাবে বিভিন্ন অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সম্প্রতি মধুখালী পৌরসভার পেঁয়াজ বাজার এলাকায় সরকারি খালের ওপর প্রায় চার দশক ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া কামারখালী বাজারের সরকারি জায়গায় নির্মিত অবৈধ দোকানঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাগাট, মেগচামী, গাজনা ও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, মধুমতি ও গড়াই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একাধিকবার মালামাল জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং ভেজালবিরোধী কার্যক্রমও নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। ভূমিসেবা সহজ ও দ্রুত করতে উপজেলা ভূমি অফিসে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগেরও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা। তাঁদের দাবি, আগের তুলনায় এখন অনেক কম সময়ে এবং হয়রানি ছাড়াই ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
ডুমাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা কবির হাসান বলেন, “সাত বছর ধরে একটি ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে ভোগান্তিতে ছিলাম। বর্তমান প্রশাসনের সময়ে এসে সমস্যার সমাধান পেয়েছি। আগে বছরের পর বছর ঘুরতে হতো, এখন শুনানির পর দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে।” তবে প্রশাসনের এসব কার্যক্রমের বিষয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশংসামূলক দাবির স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি সম্পদ রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসেবার মানোন্নয়নে প্রশাসনের চলমান কার্যক্রম ভবিষ্যতেও একই ধারায় অব্যাহত থাকবে।