যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পৃথক অভিযানে আরও দুইজনকে গাঁজাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি এলাকায় মাদক বিস্তার রোধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৭ মে রবিবার রাতে মণিরামপুর থানার নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই অলোক কুমার এবং এএসআই শাহজাহান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমারঘাটার পশ্চিমপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় সন্দেহভাজন হিসেবে শাহাজাহান বিশ্বাসের ছেলে আলামিন (২৬) কে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তার কাছ থেকে প্রায় ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবক মাদকের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে একই রাতে উপজেলার পৃথক দুই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই যুবককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দত্তকোনা গ্রামের অদুত মোড়লের ছেলে ফাহিম হোসেন (২০) এবং বালিদহ গ্রামের মৃত উজির আলী গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহর কাছ থেকে এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে মাদক সেবন ও বিক্রির প্রবণতা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় পুলিশের নিয়মিত অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক পরিবারে অশান্তি বাড়ছে এবং তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। তাই মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন মহলকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তারা। মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:আবু সাঈদ বলেন, মণিরামপুর উপজেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারি বা সেবনকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা পুলিশের এমন তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও আরও জোরালো অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।