গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুরে হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকের বর্জ্য দখল করে নিয়েছে আটাডাঙ্গা বাওড়। দেখে মনে হয় এ যেন ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলার ডাসবিন। বর্ষা এলে ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলা বেড়ে যায় দিগুণ। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা এবং ক্ষোভ দেখা গেছে সাধারণ মানেষের মাঝে।
মুকসুদপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুই ও ইনজেকশনের এম্পুলের কাচসহ বিভিন্ন মেডিকেল বর্জ্য কুমার নদীতে ফেলা হচ্ছে। পরে সেগুলো নদীর স্রোতে ভেসে এসে আটাডাঙ্গা বাওড় ও আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাওড়ের আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এসব বিপজ্জনক বর্জ্য ছড়িয়ে থাকায় তারা এখন জমিতে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। জমিতে ধান ও অন্যান্য ফসলের পরিচর্যা করতে গিয়ে অনেক কৃষকের হাতে সুই ঢুকে যাচ্ছে এবং পায়ে কাচ লেগে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে কৃষকদের মধ্যে সংক্রমণ ও নানা রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একাধিক কৃষক জানান, জমিতে নামলেই ভয় লাগে। কখন কোথা থেকে সুই বা কাচ পায়ে ঢুকবে বলা যায় না। অনেকেই আহত হয়েছেন। এরপরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বর্জ্য নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ধ্বংস না করে খোলা নদীতে ফেলে দেওয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রায়হান ইসলাম (শোভন) জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসা বর্জ্য যেন নিরাপদভাবে অপসারণ করা হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল জনান দ্রুত চিকিৎসা বর্জ্য অপসারণ, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক মাহমুদ কবির বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এখনই যদি চিকিৎসা বর্জ্য অপসারণ করার ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে নষ্ঠ হয়ে যাবে বাওড়ের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে কৃষক ও জেলেরা।