ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় এক কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার আপন চাচাতো ভাইদের পৈত্রিক জমি জবরদখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গোন্দাদিয়া মৌজায় অবস্থিত মূল্যবান এই জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন চরমে পৌঁছেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে মাঠ রেকর্ড সংশোধন করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত করছেন কাদিরদী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মোল্লা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোন্দাদিয়া মৌজার আরএস ও এসএ খতিয়ান নম্বর ৫৬৯ এবং দাগ নম্বর ১০৭৪-এর মোট ৮০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে এই বিবাদ। অভিযোগকারী ফরিদ মোল্লা ও ইসমাইল মোল্লা জানান, এই জমির মোট চার অংশের মধ্যে দুই অংশ অর্থাৎ ৪০ শতাংশের প্রকৃত মালিক তাদের পূর্বপুরুষ অহেদ মোল্লা, ইব্রাহিম মোল্লা এবং তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা। কাগজপত্রে তাদের নাম থাকলেও বর্তমানে সেখানে অবৈধভাবে দখলদারিত্ব চালাচ্ছেন নুরুজ্জামান মোল্লা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আরএস ও সিএস রেকর্ডে তাদের নাম থাকলেও অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান সুকৌশলে মাঠ রেকর্ডে কারচুপি করে ২০ শতাংশের মধ্যে ৩ শতাংশ জমি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন। ফরিদ মোল্লা বলেন, “আমরা আমাদের জমিতে গেলেই নুরুজ্জামান ও তার লোকজন আমাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।” অন্যদিকে, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে, শুধু বিএস রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে জমির পূর্ণ মালিকানা দাবি করা আইনত ভিত্তিহীন, যদি আগের রেকর্ডগুলো (এসএ/আরএস) অন্য কারো নামে থাকে।
সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে দেখা যায়, বিবাদমান জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মোল্লা সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “এই জমির প্রকৃত মালিক আমরাই। অভিযোগকারীরা অন্যায়ভাবে আমাদের দোষারোপ করছে।” তবে এসএ বা আরএস রেকর্ডে তার স্বপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ তিনি সাংবাদিকদের দেখাতে পারেননি।
স্থানীয় পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাহেন মোল্লা জানান, “দীর্ঘদিন ধরে এই জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। প্রকৃত পক্ষে ফরিদ ও ইসমাইল মোল্লাদের পূর্বপুরুষরাই এই ৪০ শতাংশ জমির মালিক। ইসমাইল মোল্লাদের নামে মাঠ রেকর্ড থাকলেও তাদের সামনের পজিশন থেকে সুকৌশলে বঞ্চিত করা হয়েছে।” বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় উক্ত জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
মধুখালী উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ মারুফ হাসান জানান, “বিতর্কিত জমিটির মালিকানা বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। ১৪৪ ধারা জারি থাকায় সেখানে কোনো পক্ষই কাজ করতে পারবে না। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেই প্রকৃত মালিকানা স্পষ্ট হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও পৈত্রিক জমি ফিরে পাওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।