গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে শিক্ষিকা সুইটি হকের পরকীয়া প্রেমিকের সাথে অশ্লীল ভিডিও এবং ছবি ভাইরাল। ইতালী প্রবাসী স্বামী ডালিম শেখের অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একতরফা তালাকের অভিযোগ উঠেছে।
এই ভাইরালের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় থেকে তার অপসারণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত ঐ শিক্ষিকা স্কুল থেকে এক মাসের ছুটি নিয়ে এলাকাছাড়া রয়েছ বলে সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে। শিক্ষিকা সুইটি হক ৩৫ নং ঝুটিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। সে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য মজিবুর হকের কন্যা ।
এলাকা ঘুরে জানাগেছে, এর আগে সংকর কুমার সরকার, আশিক মাহমুদ নাদিম ও রিয়াজ আহম্মদের সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক জড়ালে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে তাদের আসামী করে মুকসুদপুর থানায় স্বামী বিদেশে থাকায় কু-প্রস্তাব ও যৌন হয়রনীর অভিযোগ দায়ের করেছেন ঐ শিক্ষিকা নিজেই। তবে এসব অভিযোগ থানা পর্যন্ত পৌছাইনি। এটা তার প্রতারণার একটা কৌশল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষিকার পিতা মজিবুর হক স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রভাশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারে না। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বল্লে তাকে ধর্ষণ মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়। গত কয়েক বছরে তিনি প্রায় পাঁচটি মামলা দিয়েছেন এলাকার বিভিন্ন লোককে আসামী করে।
সুইটি হকের স্বামী ইতালী প্রবাসী ডালিম শেখ জানান, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর তারিখে গোপালগঞ্জ নোটারী পাবলিকের কার্যালয় থেকে বৈদ্ধভাবে তাকে বিবাহ করে। বিবাহের পরে তিনি ইতালী চলে যায়। ইতালী যাওয়ার পর থেকে সে বিভিন্ন পুরুষের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। আমি ঘটনা জানার পরে সে আমার কাছে মাপ চায় আর যার সাথে পরকীয়া করে তার নামে থানায় যৌন হয়রানী ও কু-প্রস্তাবের একটা ভূয়া অভিযোগ লিখে আমার কাছে ছবি তুলে পাঠিয়ে আমার সাথে প্রতারণা করে। আমি এই পযর্ন্ত তার নিজস্ব, তার পিতা, মাতার একাউন্ট ( মুস্তারিয়া হক অ্যাকাউন্ট নাম্বার -0200013695767, মজিবুল হক অ্যাকাউন্ট নাম্বার-0200006297711, মুস্তারি হকের বিকাশ নাম্বার-01310582905, সুইটি হকের বিকাশ নাম্বার-01744438539) ও পার্শ্ববতী এক মহিলা রোজিনা বেগমের ব্যাংক একাউন্ট (0200011536007) নাম্বারে অর্ধ কোটি টাকা পাঠাই। বর্তমানে তার এই ভাইরালের ঘটনা আমি জানার পরে আমার সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করে আমাকে একটা ভুয়া তালাক নামা পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি তার সাথে যোগাযোগ করলে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মামলা ও খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছে। আমি দেশের আইনের কাছে তার কঠিন শাস্তি দাবি করছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ শুনেছি। তিনি বিদ্যালয়ের বাহিরে এই ঘটনা ঘটিয়েছে সুতরাং এটা তার পারিবারিক ব্যাপার। তবে এ বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ আসার পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি।
মুকসুদপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের এটিও মাহাতাব জানান, আমরা তার ব্যাপারে মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা সুইটি হকের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে তার কর্মরত বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তার বাড়িতে গেলে তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। তার ব্যবহত মোবাইল নাম্বারে বার বার যোগাযোগ করলেও বন্ধ পাওয়া গেছে। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।