ফরিদপুরের নগরকান্দায় চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের ফলে কৃষকদের দীর্ঘদিনের পাট পচানোর পানির সংকট দূর হতে যাচ্ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জেলার কৃষকরা এই খাল খননের সুফল পেতে শুরু করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম।
আজ (বৃহস্পতিবার, ১১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মানিকনগর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় চলমান খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন— তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক তৈয়বুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নাব্যতা হারানো খালগুলো পুনঃখনন করার কারণে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, যা গ্রামীণ কৃষি কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে।”
নগরকান্দার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “‘পাটের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই নগরকান্দা অঞ্চলের কৃষকদের অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল পাট পচানোর জন্য পর্যাপ্ত পানির অভাব। এখন খালগুলোতে পানি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষকরা খুব সহজেই পাট পচাতে পারবেন। এটি তাদের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে সহায়ক হবে।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হলে এলাকায় শুধু পাট পচানোর ব্যবস্থাপনাই সহজ হবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, সেচ ব্যবস্থার আমূল উন্নয়ন ঘটবে এবং বিভিন্ন ধরনের রবি ও খরিপ শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এটি গ্রামীণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকার প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের এই ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখবে।
এদিকে সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, খাল খননের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে এলাকায় সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, বর্ষায় জলাবদ্ধতার ভোগান্তি কমবে এবং পাটসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হবে; যা সামগ্রিকভাবে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে।