সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরুল সংগীত গেয়ে রাতারাতি ভাইরাল হওয়া ফরিদপুরের লাইলী বেগম(৭০) ওরফে ‘লাইলী খালা’র দীর্ঘদিনের একটি লালিত ইচ্ছা পূরণ করলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের মানবিক প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ। আজ (বৃহস্পতিবার, ১১ জুন) বিকাল ৫ টার দিকে তাকে নিজর গাড়িতে করে নিয়ে যান জেলা সদরের মুন্সিবাজার এলাকার একটি স্বনামধন্য ফার্নিচার তৈরির কারখানায়। সেখানে ‘লাইলী খালা’র ইচ্ছা অনুযায়ী উন্নতমানের কাঠ দিয়ে ময়ূর-সর্প ও গোলাপ খচিত একটি খাট তৈরির অর্ডার দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে খাটের অগ্রিম মূল্য পরিষোধ করেন আফজাল হোসেন খান পলাশ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত ২৪ মে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের বাড়িতে আয়োজিত নজরুল জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে কাঁধে পোটলা ঝুলিয়ে জীর্ণশীর্ণ শরীরে দিনরাত পথে প্রান্তরে কাটানো ভবঘুরে লাইলী বেগম গান গেয়ে আলোচনায় আসেন। সেখানে তিনি ‘নয়ন ভরা জল গো তোমার আচল ভরা ফুল‘ শিরোনামের একটি নজরুল সংগীত গেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তাঁর গাওয়া গানের সুর-তাল-লয় মুগ্ধ করে নেটিজেনদের। মূহর্তেই শুধু ফরিদপুর নয় সারা দেশেই আলোচিত নাম হয়ে উঠেন লাইলী বেগম।
পরবর্তীতে গত বুধবার (২৭ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের নিমন্ত্রেনে তার বাংলোবাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লাইলী বেগমের গাওয়া গান শুনেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন,“একজন শিল্পীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।’এসময় তিনি লাইলী বেগমকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এরপরে গত ২৯ মে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলামের আমন্ত্রণে এক অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী মান্না দে‘র গান গেয়ে সেখানে সুরের মূর্ছনায় উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন “লাইলী খালা”। পুলিশ সুপার তাঁর এই প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন একই সাথে তাঁর হাতে ঈদ উপহারসামগ্রী তুলে দেন।
পরবর্তীতে গত সোমবার (৮ জুন) ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশের কার্যালয়ে গিয়ে ‘আমার যাবার সময় হলো দাও বিদায়’ শিরোনামে একটি নজরুল সংগীত গেয়ে শোনান। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুনরায় ভাইরাল হয়। গান শেষে “লাইলী খালা” জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে একটি কারুকার্য খচিত খাট বানিয়ে দেয়ার আবদার করেন। তার স্বপ্ন পূরনের জন্য আজ বিকাল ৫ টার দিকে তাকে নিজের গাড়িতে করে জেলা সদরের মুন্সিবাজার এলাকার একটি স্বনামধন্য ফার্নিচার তৈরির কারখানায় নিয়ে যান প্রশাসক নিজে। সেখানে লাইলী বেগম উন্নতমানের কাঠ দিয়ে ময়ূর-সর্প ও গোলাপ খচিত একটি খাট তৈরির ইচ্ছা প্রকাশ করলে সেটি তৈরি করার জন্য কারখানাটিতে ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক ব্যক্তিগতভাবে খাটের অগ্রিম মূল্য পরিষোধ করেন আফজাল হোসেন খান পলাশ।
এসময় উপস্থিত সকলে এই ছিন্নমূল,খেয়ালী শিল্পীর এই স্বপ্ন পূরন করায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের ভূয়ষী প্রশংসা করেন।