ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালী থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর জাহানারা বেগম (৩০) ও তার ৫ বছরের শিশু কন্যা সামিয়া হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামি মোঃ উজ্জল খান (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত।
শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) দুপুরে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানাধীন বকারটিলা এলাকা থেকে তাকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
আজ রবিবার বেলা ২টায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার হলরুমে এক প্রেস ব্রিফিংএ ফরিদপুর জেলা পুলিশ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের আত্মীয় মোঃ লালন মোল্লা (৬৫)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ আবুল বাশার মোল্লা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের মোবাইল নম্বরের কল লিস্ট পর্যালোচনা করে আসামি উজ্জল খানের সম্পৃক্ততা খুঁজে পান।
গ্রেপ্তারের পর আসামির হেফাজত থেকে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং ভুক্তভোগীদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, স্যান্ডেল ও জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া লাশ গুম করার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো আছাড়িসহ কোদাল জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আসামি উজ্জল খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার আমিন বাজারের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুবাদে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বাসিন্দা জাহানারা বেগমের সাথে উজ্জল খানের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে বিগত ৩ বছর যাবৎ তাদের মধ্যে গোপন পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে গত ৪ মে জাহানারা বেগমকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে ডেকে আনে উজ্জল। পরবর্তীতে তারা ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানাধীন চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় জনৈক সামছুল মোল্লার পুকুর পাড়ের একটি নির্জন ঘরে অবস্থান নেয়। সেখানে দীর্ঘ কথোপকথনের একপর্যায়ে জাহানারা বেগম তাকে বিয়ে করে ঘরে তোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা তৈরি হয়।
রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টায় উজ্জল উত্তেজিত হয়ে জাহানারার বুকে সজোরে ঘুষি মারে এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুই হাত দিয়ে গলা টিপে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। মায়ের এই অবস্থা দেখে শিশু কন্যা সামিয়া চিৎকার শুরু করলে, তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ আড়াল করতে উজ্জল খান তার বাড়ি থেকে কোদাল এনে ওই ঘরের পশ্চিম পাশে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের লাশ মাটিচাপা দেয় এবং কাটা কলাগাছ দিয়ে স্থানটি ঢেকে রেখে পালিয়ে যায়।
এর আগে গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীদের গলিত লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (সদর সার্কেল) দিকনির্দেশনায় মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।