ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় খাল পুনঃখননের নামে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৫৫টি গাছের কাণ্ড ও গুঁড়ি।
জানা গেছে, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকার ‘মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত’ প্রায় দুই কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই কাজের আড়ালে বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা প্রায় ১৩ বছর বয়সী শতাধিক মেহগনি, শিশু, রেন্টি ও আকাশমনি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই খালের দক্ষিণ পাড়ের গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাটা গাছ বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার কথা থাকলেও সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ফরিদপুর বন বিভাগের উদ্যোগে তালতলা থেকে ভেন্নাতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছিল সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায়। দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ খালপাড়ে একটি সবুজ বেষ্টনী তৈরি করেছিল। বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বোয়ালমারীতে তিনটি খালের পুনঃখনন কাজ চললেও নদীয়ারচাঁদ খালের গাছ কাটার ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। পরে রোববার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি ও নদেরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হেমায়েত উদ্দিনের বাড়ি থেকে অন্তত ৫৫টি গাছের গুঁড়ি ও কাণ্ড জব্দ করা হয়।
ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ২৩ মে’র মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে গাছ কাটার সংখ্যা, অনুমতি ছিল কি না এবং কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, “খালপাড়ের গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া কোনো গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।”
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, “সরকারি জমির গাছ কেউ ব্যক্তিগতভাবে নিতে পারবে না। অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে পরিবেশ সচেতন স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নির্বিচারে গাছ কাটা হলে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। তারা দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় এনে খালপাড়ে পুনরায় বৃক্ষরোপণের দাবি জানিয়েছেন।