শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে র্যালি ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। আজ (বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে আলীপুর গোরস্থানে জুলাই আন্দোলনের দুজন শহীদের কবর জিয়ারত করেন নেতৃবৃন্দ। কবর জিয়ারত শেষে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর আলীপুর কবরস্থান মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি বিশাল র্যালি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিটি আলীপুরের ‘৩৬ জুলাই স্তম্ভে’ গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
৩৬ জুলাই স্তম্ভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর পৌর আমির ড. এহসানুল মাহবুব রুবেল। পৌর সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মুহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, “শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ছাত্র-জনতার যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার মুখপাত্র ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী।
সমাবেশে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আরও বক্তব্য দেন, ফরিদপুর জেলা শাখার বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি মাওলানা হাফিজুর রহমান।
এছাড়াও এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরাই আমাদের নতুন বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। তাদের স্মৃতি এবং চেতনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে লালন করতে হবে এবং আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা নস্যাৎ করার যেকোনো ষড়যন্ত্র ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।
সমাবেশ শেষে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।