ফরিদপুর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম সড়ক সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত ‘মুন্সিবাজার মোড়’। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং দূরপাল্লার শত শত যানবাহন। তবে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই মোড়টি এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জন্য চরম দুর্ভোগ আর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কের ঠিক পাশেই দীর্ঘস্থায়ী জলবদ্ধতা ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ তৈরি হওয়ায় থমকে গেছে স্বাভাবিক জনজীবন।
সরেজমিনে মুন্সিবাজার মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক ভয়ানক চিত্র। মহাসড়কের একপাশ ঘেঁষে জমে রয়েছে ঘন কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি। সেই পানিতে ভাসছে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেটসহ নানা রকমের গৃহস্থালি বর্জ্য। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই এখানে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এই নোংরা পানি মাড়িয়েই প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারী এবং স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীরা ময়লা পানির কিনারা ঘেঁষে অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছে। অসাবধানতাবশত দ্রুতগামী কোনো গাড়ি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই নোংরা পানি ছিটকে এসে নষ্ট হচ্ছে পথচারীদের পরিধেয় বস্ত্র।
মুন্সিবাজার মোড়টি মূলত একটি মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় এখানে সারাক্ষণই বাস, ট্রাক এবং দ্রুতগতির থ্রি-হুইলার (ইজি বাইক) চলাচল করে। সড়কের পাশে নোংরা পানি জমে থাকায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কের মাঝখান দিয়ে চলাচল করছেন। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সাধারণ পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে আমাদের হেঁটে বাজারে বা অফিসে যেতে হয়। পুরো এলাকা দুর্গন্ধে ভেসে যায়, নাক চেপে ধরে হাঁটতে হয়। তার ওপর দ্রুতগতির গাড়ি গেলেই নোংরা পানি ছিটকে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। আমরা কর দিই, কিন্তু আমাদের এই নূন্যতম দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।”
বেশ কিছু শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, “আমাদের প্রতিদিন এই নোংরা পানি আর ময়লা ডিঙিয়েই স্কুল-কলেজে যেতে হয়। জুতো-মোজা ভিজে নোংরা হয়ে যায়। পাশেই বড় বড় গাড়ি চলে, রাস্তা পার হতে গিয়ে আমাদের সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।”
বাস চালক সোলায়মান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, “দূরপাল্লার বাস নিয়ে যখন এই মোড় পার হই, তখন সড়কের পাশে জমে থাকা নোংরা পানির কারণে পথচারীরা একদম রাস্তার মাঝখানে চলে আসেন। তাদের বাঁচাতে গিয়ে হুট করে ব্রেক চাপতে হয়, যা মহাসড়কে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।”
নিয়মিত এক ট্রাক চালক ইলিয়াস মোল্লা বলেন,”রাস্তার পাশে এই নোংরা পানির নিচে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে আছে, যা ওপর থেকে বোঝা যায় না। ভারী ট্রাক নিয়ে সাইড দিতে গেলেই চাকা গর্তে পড়ে গাড়ি একদিকে হেলে যায়। এই মোড় পার হতে গেলেই এখন ভয় লাগে।”
স্থানীয় এক ইজিবাইক চালক বলেন,”এখানে সবসময়ই পানি জমে থাকে। গাড়ি ঘুরাতে বা যাত্রী নামাতে চরম অসুবিধা হয়। অনেক সময় নোংরা পানির নিচে থাকা গর্ত দেখতে না পেয়ে গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।”
সড়কের পাশে এভাবে দিনের পর দিন নোংরা পানি জমে থাকায় তা মশা ও নানা রোগজীবাণু ছড়ানোর উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধের কারণে এই মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বা চলাচল করা সাধারণ মানুষের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ডেঙ্গুসহ নানাবিধ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, মুন্সিবাজার মোড়ের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে এখানে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করা এবং মহাসড়কের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় এই ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা আরও দীর্ঘায়িত হবে।