1. kazi.rana10@gmail.com : Sohel Rana : Sohel Rana
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সালথায় কে এম ওবায়দুর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু নিজড়া ইউনিয়নে নতুন চমক সরদার আকিবুল ইসলাম পাটগাতী ইউনিয়নে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় কামরুল ইসলাম গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের মিছিলে পুলিশের গাড়ি ভা’ঙ’চু’র দুই পুলিশ সদস্যকে মা’র’ধ’র গোপালগঞ্জে রঘুনাথপুর সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ, ধুলায় দুর্ভোগে পথচারীরা বীরগঞ্জের নতুনপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে চার কৃতী ব্যক্তিকে সম্মাননা ‘পছন্দ হলেই বিয়ে’ নয়, শত বছরের ঐতিহ্যে বীরগঞ্জে আদিবাসীদের মিলনমেলা বীরগঞ্জে দুই শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে ১৫ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান আনিস দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাতে টুঙ্গিপাড়া বিভিন্ন মন্দিরে এমপি এস এম জিলানী

নিজাম শেখ পরিবারকে ঘিরে মামলায় উঠছে নানা প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১২৪ Time View

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর করফা গ্রামে একটি মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ, মাছ চুরি এবং বাঁশের পাটায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলা ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার অভিযোগ, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং কয়েকজন সাক্ষীর বর্ণনায় কিছু অসঙ্গতির বিষয় সামনে আসায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, উত্তর করফা গ্রামের মো. ফোরকান শেখ বাদী হয়ে প্রতিবেশী নিজাম শেখ, তাঁর দুই ছেলে খায়রুল শেখ ও জহুরুল শেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং উত্তর করফা ও পার্শ্ববর্তী ঝনঝনিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত নিজাম শেখ দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তিনি অসুস্থ ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পরিকল্পিত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন শেখের ভাষ্য, নিজাম শেখকে দীর্ঘদিন ধরে শান্ত ও নিরীহ মানুষ হিসেবেই চেনেন তারা। তাঁর দাবি, বাদী আগুন লাগানোর ঘটনা সরাসরি দেখেননি; বরং সন্দেহের ভিত্তিতেই মামলা করা হয়েছে।

একই ধরনের মত প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা মিয়া শিকদার ও আব্দুল আলী শেখ। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাসকারী নিজাম শেখের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

ঘটনার রাতের বিষয়ে স্থানীয়দের বক্তব্যেও ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। আরিফুল ইসলাম আরজু জানান, আগুন লাগার পর অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরাই প্রথম চিৎকার করে আশপাশের মানুষকে ডাকেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ জুলাই ২০২৬ রাতে আসামিরা পেট্রোল ব্যবহার করে বাঁশের পাটায় আগুন দেন এবং বাদীকে মারধর করেন। তবে বাদী ফোরকান শেখ বলেন, এর আগে তাঁর মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে এবং পরে তিনি হুমকি পান। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতা বিবেচনা করেই তাঁর সন্দেহ হয়েছে যে অভিযুক্তরাই অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

মামলার কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্যেও ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। তিন নম্বর সাক্ষী হাবিবুর তালুকদার বলেন, তিনি ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন এবং চিৎকার শুনে বাইরে এসে আগুন দেখতে পান। তবে তাঁকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

অন্যদিকে, মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী গণমাধ্যমের সামনে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় প্রয়োজন হলে আদালতেই তিনি তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।

এদিকে, প্রধান আসামি নিজাম শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি ঘটনার আগে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ঘটনার সময় তাঁর পরিবারই প্রথম স্থানীয়দের ডেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তাঁর অভিযোগ, পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মত, যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন। বাদীর অভিযোগ, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং স্থানীয়দের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার মধ্যে যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023
error: Content is protected !!