1. kazi.rana10@gmail.com : Sohel Rana : Sohel Rana
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিএনপির সমর্থক পরিচয় দিলেও গ্রেফতার এড়াতে পারলেন না আ.লীগ নেতা ইউনুস শেখ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে কাশিয়ানীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার মানবিক উদ্যোগে নতুন ভ্যান পেলেন অসহায় চালক, মুখে ফিরল জীবিকার হাসি রাজবাড়ীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকের উপর হামলা কোটালীপাড়ায় ১৭০ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা জব্দ, ব্যবসায়ীকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, টুঙ্গিপাড়ার পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শনে এমপি বীরগঞ্জে মোহনপুর ইউনিয়নে বিএনপির দল পুনর্গঠন নিয়ে মতবিনিময় সভা সন্তানদের অবহেলায় অসহায় ৯৭ বছরের বৃদ্ধ, ভরণপোষণের দাবিতে থানায় অভিযোগ মধুখালীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান, ভূমিসেবায় গতি আনায় বাড়ছে জনআস্থা

২০ মিনিটে মধুমতি নদীগর্ভে বিলীন তিন একর ফসলি জমি

আলফাডাঙ্গা সংবাদদাতা
  • Update Time : সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ৫২৪ Time View

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর আগ্রাসী ভাঙনে মাত্র ২০ মিনিটে তিন একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের বিশেষ আবাসন প্রকল্প স্বপ্ননগর এলাকা।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কাতলাসুর এলাকায় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে মধুমতি নদীর এই ভাঙন রুদ্ররূপ ধারণ করে। এতে মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে বিলীন হয়ে যায় কমপক্ষে তিন একর ফসলি জমি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কাতলাসুর এলাকায় অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সেই কৃষি জমি এখন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এসব জমিতে ধান, পাট ও ভুট্টা চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এলাকার কৃষকরা। একমাত্র আয়ের উৎস ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা এখানকার কৃষকরা।

বাপ-দাদার ফসলি জমি চাষাবাদ করে জীবিকানির্বাহ করতেন কাতলাসুর গ্রামের টুকু মোল্যা। নদীগর্ভে তাদের তিন বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। এসময় কান্নাজড়িত কন্ঠে টুকু মোল্যা বলেন, কৃষি কাজ করে সংসার চালায়। কিন্তু মুহুর্তেই আমার সব জমি নদীর পেটে চলে গেছে। এখন চাষাবাদ করার কোন জমি আর থাকলো না। একই এলাকার ফান্টু খাঁ জানান, হঠাৎ নদীতে তার কমপক্ষে দুই বিঘা জমি বিলীন হয়ে গেছে। অপর কৃষক জিন্নাহ মিয়া জানান, তার এক বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে এই ভাঙনের মাত্র ৩০০ মিটার দূরে দক্ষিন-পূর্ব অংশে অবস্থিত গৃহহীন ও ভূমিহীনদের বিশেষ আবাসন প্রকল্প স্বপ্ননগর এলাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চরকাতলাসুর গ্রামে ৫৩ একর জমির ওপর নগরের সব সুবিধা নিয়ে ‘স্বপ্ননগর’ নামে আবাসন এলাকা নির্মাণ করা হয়। যাদের জমি নেই, ঘর নেই; এমন ২শ ৮৬ পরিবারের ঠাঁই হয়েছে স্বপ্ননগরে। ঘর নির্মাণের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে মসজিদ, মন্দির, বিদ্যালয়, হাট, খেলার মাঠ, ঈদগাহ, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিশুপার্ক, ইকোপার্ক ও সামাজিক বনায়ন। এছাড়া উপকারভোগীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। জমিসহ ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর। চার বছর না যেতেই এসব ঘরের বাসিন্দারা এখন নদী ভাঙনে ঘর হারানো আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। এছাড়াও স্বপ্ননগর আবাসন এলাকা ব্যতীতও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে আশেপাশের কয়েক শতাধিক পরিবার, মসজিদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ নানা স্থাপনা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, সিরাজুল ইসলাম শরীফ, হুরি বেগম জানান, আমরা মাথা গোজার ঠাঁই হিসেবে স্বপ্ননগরে একটু আশ্রয় পেয়েছিলাম। এখন এই আশ্রয় হারালে আমাদের আবার পথে পথেই থাকতে হবে। কালতাসুর গ্রামের আফজাল মোল্যা জানান, নদী থেকে ১০০ মিটার দূরে আমার বাড়ি। যেভাবে নদী ভাঙছে জানিনা কি হবে। বাড়ির এই জমিটুকু ছাড়া আমার থাকার জন্য আর কোন জমি নেই।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এরপর তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি সংশ্লিষ্ট যেকোন বিষয়ে তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, ফসলি জমি বিলীনের বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে আপদকালীন জিও ব্যাগ ফেলানো হবে। ভবিষ্যতের জন্য নদীর স্রোত ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023
error: Content is protected !!