ফরিদপুর শহরের মদনখালী স্লুইসগেট সংলগ্ন পৌরসভার ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ডাম্পিং সেন্টারের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছিনতাইকারী চক্রের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক জাকিব আহমেদ (২৬)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক ফতেহাবাদ’-এ কর্মরত।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। চিহ্নিত ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা আল আমীনের নেতৃত্বে টিকটকার সাকিব, তাঁর ভাই লিয়নসহ সংঘবদ্ধ দলবল ধারালো কাঁচি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাকিব আহমেদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ধারালো কাঁচি দিয়ে তাঁর পিঠ, হাতের ওপর, কাঁধ ও কোমরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে তোঁড়া জখম করে।
জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে সালথার এক যুবক তাঁর বাগদত্তাকে নিয়ে স্লুইসগেট এলাকায় ঘুরতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে বেড়িবাঁধ সড়কের ডাম্পিং স্টেশনের সামনে আল আমীন ও তাঁর সহযোগীরা মোটরসাইকেলে এসে তাঁদের পথরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ওই তরুণীকে অসম্মান করে, তাঁর পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে এবং সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও সোনার আংটি ছিনিয়ে নেয়।
পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে সেখানে যান সাংবাদিক জাকিব আহমেদ। তিনি আগের দিনের ছিনতাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন এবং ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আল আমীনের বক্তব্য গ্রহণ করছিলেন। বক্তব্য ও মোবাইলে ভিডিও ধারণের একপর্যায়ে চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইলটি ভেঙে ফেলে। এরপরই ধারালো কাঁচি দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টেপাখোলা ও মদনখালী স্লুইসগেট এলাকা বর্তমানে ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা প্রতিনিয়ত এই সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। এমনকি বৃহস্পতিবার রাতেও একই এলাকায় পরপর তিনটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাকিব আহমেদ জানান, তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্তপূর্বক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”