কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম ভাদীতলা এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থী নুরা জান্নাত চুমকির শিক্ষাজীবন যখন আর্থিক সংকটে থমকে যাওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মনির আহমদ।
জানা যায়, চুমকি ঈদগাঁও আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের একজন শিক্ষার্থী। কিন্তু পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কারণে গত বছর সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তার পিতা মোহাম্মদ সেলিম ও মাতা শাহেনা আক্তার সীমিত আয়ের মানুষ হওয়ায় মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। ফলে চুমকির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে সহানুভূতির আবেদন জানানো হলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে করে চুমকি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।
এ অবস্থায় বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে মনির আহমদের নজরে এলে তিনি দ্রুত চুমকির বাড়িতে গিয়ে তার বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। চুমকির চোখের জল ও অসহায়ত্ব তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চুমকির শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং আশ্বস্ত করেন—তার পড়াশোনা আর থেমে থাকবে না।
পরবর্তীতে মনির আহমদ ঈদগাঁও জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার আন্তরিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনায় ‘ঈদগাঁও যুব মানবিক ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে চুমকির নতুন করে ভর্তি নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি তার বই, পোশাক, পরীক্ষা ফি এবং অন্যান্য শিক্ষাব্যয় বহনের দায়িত্বও নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা মনে করেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে আরও অনেক অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সম্ভব।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চেষ্টা করেছি যেন চুমকির মতো মেধাবী কেউ আর ঝরে না পড়ে।”
এদিকে মনির আহমদ বলেন, “শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়ে—সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। চুমকির মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে চাই।”
স্থানীয়রা মনির আহমদের এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য একটি অনুপ্রেরণার গল্প।