বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসেও সংবাদ সংগ্রহের সময় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আগে থেকে অনুমতি না নিয়ে কোনো ধরনের ভিডিও ধারণ বা ছবি তোলা যাবে না। তবে এমন দাবির সপক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় জেলাজুড়ে কর্মরত সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
আজ (রোববার ৩ মে,২০২৬) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান দুজন সাংবাদিক। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা তাঁদের কাজে বাধা দেন। তাঁদের স্পষ্ট জানানো হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল এলাকায় ক্যামেরা চালানো বা ছবি তোলা নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সরকারি হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো বিধিনিষেধ আছে কি না—এমন প্রশ্নে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান জানান, সাধারণ সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার কথা তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, “গবেষণা বা রিসার্চের কাজের জন্য তথ্য নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়, তবে সাধারণ দায়িত্ব পালনে এমন কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন আকস্মিক ও মৌখিক নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনেরা।
নিন্দা জানিয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও জিটিভির জেলা প্রতিনিধি শেখ মনির হোসেন বলেন, “হাসপাতাল কোনো রাষ্ট্রীয় গোপনীয় প্রতিষ্ঠান নয় যে সেখানে সংবাদ সংগ্রহে অনুমতি লাগবে। এভাবে ইচ্ছামতো নিয়ম তৈরি করে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।”
ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, “সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা। যারা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকে তারাই এ ধরনের কালাকানুন তৈরি করে। একটি স্বাধীন দেশের হাসপাতালে সাংবাদিকরা কাজ করতে পারবে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের নিয়মের নিন্দা জানিয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপিকা শিপ্রা রায় বলেন, “মুখে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সাংবাদিকদের কাজের অবাধ স্বাধীনতা থাকা উচিত।”
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী এই ঘটনাকে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অবিলম্বে এই অঘোষিত ‘আইন’ প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।