ফরিদপুরের মধুখালীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উপসম ক্লিনিক, এই ক্লিনিক এর নির্ধারিত ডা.মঈনুল ইসলাম শাহীন, যার অনুমতি নেই সিজারের মত গুরুত্বপূর্ন অপরেশন করার, তার বিএমডিসি অনুমোদিত সার্টিফিকেট মেয়াদ উত্তীর্ণ বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ উপশম ক্লিনিকের নিয়মিত ডাক্তার মো.মঈনুল হোসেন শাহীন রোগী ও রোগীর লোকের সাথে সব সময় খারাপ ব্যবহার করেন। যার ফলে মধুখালীতে তাকে উগ্র ডাক্তার বলে অনেকেই জানে।
প্রসূতির সিজারসহ বিভিন্ন রোগের অপারেশন তিনি করে থাকেন এই আলোচিত ডা. শাহিন। বিগত আওয়ামী লীগের আমলে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠায় নিজের হেডাম দেখাতে গিয়ে অনেক রোগীকেই বিপদে ফেলেছেন, যার ফলে অপারেশন এবং সিজারে ইতিমধ্যেই অনেক রোগী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এমনকি মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটেছে।
গত ২২ ডিসেম্বর স্থানীয় সানজিদা ক্লিনিকে সুমাইয়া নামে এক প্রসূতিকে সিজার করলে সিজারের দশ দিন পর ঐ প্রসূতির মৃত্যু হয়। মৃত প্রসূতি উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের মুরাদ মৃধার মেয়ে। প্রসূতি মায়ের এই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য কর অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ডাঃ শাহিন এর লোকজন বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। মৃত সুমাইয়াকে কাউকে না জানিয়েই বরিশালে তার স্বামীর বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। বুধবার সকালে সানজিদা ক্লিনিকের মালিকপক্ষ মিজানুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনা অস্বীকার করলেও মৃত সুমাইয়ার মা শিরিনা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ডাক্তার শাহিন অবহেলা করে সিজার করেছে।আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। সিজারের মাত্র ১০ দিন পরেই আমার মেয়ের শরীর থেকে মটরের পাইপ এর মত রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে।ঐ সময় সানজিদা ক্লিনিকের মিজানের সাথে কথা বললে তিনি ফরিদপুর নেয়ার পরামর্শ দেন।আমরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করি। পরে অবস্থা আরো খারাপ হলে ঢাকা নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে উঠাই ততক্ষণে আমার মেয়ে মারা যায়।
বিষয়টি ক্লিনিকের মালিক মিজানকে অবহিত করলে আমাকে কাউকে কিছু না বলার জন্য জোর করে এবং টাকা পয়সা দিতে চায়।তিনি বলেন, আমার মেয়ে যেখানে মারা যায় গেছে আমি টাকা দিয়ে কি করব আমি এই হত্যার বিচার চাই।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ডা. শাহিনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি,তার সাথে কথা বলতে উপশম ক্লিনিকে গেলে তিনি সাংবাদিকদের উপর ক্ষেপে যান এবং খারাপ আচরণ করেন।
সানজিদা ক্লিনিকের মালিক পক্ষ মিজানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন এ নামে আমাদের ক্লিনিকে কেউ সিজার হয়নি। তবে ধরা পড়ার পর মিজান স্বীকার করেছেন তার ক্লিনিকেই ডা. শাহীন সিজার করেছে।