জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সম্বনয়ক ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রধান অতিথি এমন একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়া ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি পুলিশের তালিকাভুক্ত গোলাম নাছির। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এতে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির খান। সভাটি বিকেল ৪টায় শেষ হয়। এই সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম নাছির।
জানা গেছে, ফরিদপুর জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি গোলাম নাছিরের আসল নাম আশরাফুল আলম নাছির। শহরের ওয়্যারলেস পাড়ার মৃত মনিরুজ্জামান ওরফে বদরুলের ছেলে তিনি। ফরিদপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় ২৩ নম্বরে ছিল গোলাম নাছিরের নাম। সন্ত্রাস, হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিস্ফোরক বোমা প্রস্তুত ও অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহের অসংখ্য মামলার আসামি নাছির।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর ফরিদপুর জেলার সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি গোলাম নাছির। তিনি ছাত্র জনতার আন্দোলনে সরাসরি তার বাহিনী নিয়ে হামলায় অংশ নেন। আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রোগামেও ঢাকাতে দলবল নিয়ে অংশ নেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও ফরিদপুর জেলায় ছাত্র হত্যার কমপক্ষে ৫টি মামলা হয়েছে। সেই থেকে পলাতক গোলাম নাছির।গত বৃহস্পতিবারের সভায় শুধু নাছির একা নন, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে দেখা গেছে জেলা শ্রমিক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জুবায়ের জাকিরকে।
পুলিশ খুঁজে না পেলেও, এমন একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে দেখে হতবাক ফরিদপুরের সাধারণ মানুষ ও ছাত্র সমাজ। ভাইরাল ভিডিওতে তারা পুলিশ ও বিএনপির প্রতি নেতিবাচক মন্তব্য করেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নাছিরের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে অতিথিদের সামনে ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কাস ইউনিয়নের পক্ষে বহিষ্কৃত নেতা নাছির বক্তব্য রাখছেন। এ সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কাস ইউনিয়নের বহিষ্কৃত সভাপতি ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জুবায়ের জাকির।
বক্তব্যের প্রথমে নাছির মঞ্চে উপস্থিত প্রধান অতিথি, সভাপতি ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদককে অ্যাড্রেস করেন। পরে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি ২২ বছর ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময় বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন যখন যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে আমরা শ্রমিক ফেডারেশনে সাথে থেকেছি। বিগত দিনেও আমরা শ্রমিক ফেডারেশনের সাথে কাজ করেছি আগামীতেও করব।’
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফরিদপুরের অন্যতম সম্বনয়ক আবরাব নাদিম ইতু বলেন, ‘এই সন্ত্রাসী নাছির তার সহযোগীদের নিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার ওপর গত ৩ ও ৪ আগস্ট অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছে। সে সময় পুলিশও তাদের সহযোগী ছিল। আমরা এই নাছির ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।’
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, ‘আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখেছি। গোলাম নাছিরকে আটক করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ রয়েছে সে ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে।