ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কাজী সিরাজুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুর রউফ খান। তাঁকে সভাপতি করতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের সুপারিশপত্র দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুর রউফ খান বোয়ালমারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান কমিটির শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক । গত ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক আধা-সরকারি পত্রে (ডিও লেটার) তাঁকে কাজী সিরাজুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত করার সুপারিশ করেন সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান।

সুপারিশপত্রে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, আব্দুর রউফ খান একজন শিক্ষিত ব্যক্তি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন বলে তিনি মনে করেন। প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।
এরপর গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মাদ্রাসাটির চার সদস্যের এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে আব্দুর রউফ খানকে ছয় মাসের জন্য সভাপতি করা হয়েছে।
এদিকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আব্দুর রউফ খানের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টার ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। একটি পোস্টারে তাঁকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টারটিতে শেখ হাসিনা ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া কার্যক্রমনিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের একটি নির্বাচনী সভায় আব্দুর রউফকে সামনের সারিতে বসে থাকতে দেখা গেছে—এমন ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তবে নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুর রউফ খান। তিনি বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক পদে ছিলাম না। যেসব ছবি ছড়ানো হচ্ছে, তা আমার প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করে ছড়াচ্ছে।”
বিএনপির সংসদ সদস্যের সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রউফ খান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। সার্টিফিকেট যুক্ত করে ইউএনও সাহেবের মাধ্যমে আবেদন করেছিলাম, সেখান থেকে শিক্ষা বোর্ডে গেছে।”

অন্যদিকে আব্দুর রউফ খানের পক্ষে সুপারিশপত্র দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তাঁর জানা ছিল না। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এসে অনুরোধ করায় তিনি সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। ফরিদপুর-১ আসনের সবাইকে তাঁর পক্ষে চেনা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হেলেন জেরিন খান আরও বলেন, “আমার হাত দিয়ে ভুলবশত এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সংসদ সদস্যের সুপারিশ এবং মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনয়ন—এই তিনটি বিষয় ঘিরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।