ফরিদপুরে পৈতৃক ভিটামাটি দখল, হামলা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার, নিরাপত্তা এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুলাইমান হোসাইন।
আজ (রবিবার, ১১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুলাইমান হোসাইন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে সুলাইমান হোসাইন অভিযোগ করেন, এএসআই ইউসুফ হোসেন নূর ও তাঁর বাবা আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ তাঁদের পৈতৃক ভিটামাটি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে জমি দখল করেছে। এ সময় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, শারীরিক নির্যাতন ও যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আইনজীবী বলেন, এএসআই ইউসুফ হোসেন নূর ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত জখম করেন। এ সময় পরিবারের নারী সদস্যদের ঘরে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাঁর মা, বোন ও খালা গুরুতর আহত হন। পরে তাঁরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টানা ১০ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানান সুলাইমান হোসাইন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রতিকার পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে নিয়মিত মামলা (সিআর মামলা নং ২৩৩০/২৫) দায়ের করেছেন। পাশাপাশি জমি বণ্টন নিয়ে দেওয়ানি মোকদ্দমা (নং ৩৩৪/২৬) চলমান রয়েছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট আদালত জমি নিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও অভিযুক্ত পক্ষ তা উপেক্ষা করে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সুলাইমান হোসাইন অভিযোগ করেন, এএসআই ইউসুফ হোসেন নিজের পেশাগত পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছেন। পাশাপাশি সিআইডি ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত কার্যক্রমেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর আরও অভিযোগ, মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং যাতায়াতের পথ ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।
এএসআই ইউসুফ হোসেন নূরের সম্পদ অর্জন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুলাইমান হোসাইন। তাঁর দাবি, রাজবাড়ী জেলায় চাকরিরত অবস্থায় সাবেক সরকারি দলের ছত্রচ্ছায়ায় বিভিন্ন অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর নামে-বেনামে একাধিক জমি ও সম্পত্তি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আইনজীবী জানান, এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে একাধিকবার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্তোষজনক প্রতিকার পাননি বলে দাবি তাঁর।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সুলাইমান হোসাইন ও তাঁর পরিবার পৈতৃক ভিটামাটি ফিরে পাওয়া, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।