ফরিদপুরে মোবাইল কোর্টের উচ্ছেদ অভিযান : সওজের ৩১ শতাংশ সরকারি জমি উদ্ধার, বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
Update Time :
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
১৫
Time View
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেতুলতলা এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রায় ৩১ শতাংশ সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা।
রোববার (২১ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ফরিদপুরের সহযোগিতায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার গঙ্গাবর্দী মৌজার এসএ ২০২৪ ও ২০২৫ দাগভুক্ত সওজের অধিগ্রহণকৃত ও রেকর্ডভুক্ত জমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে সেমিপাকা মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, শলাকুন্ড গ্রামের বাসিন্দা হামজা (পিতা: মৃত আব্দুস সালাম) দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিলেন।
সওজ বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দেশনা মেনে না নেওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমি দখলমুক্ত করা হয়।
অভিযান চলাকালে উদ্ধার হওয়া ইট ও বালু প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি ট্রেজারি কোডে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উচ্ছেদ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল এবং আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ তানজিম উপস্থিত থেকে সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে জমির সীমানা নির্ধারণে সহায়তা করেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল বা সেখানে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। একাধিকবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা অমান্য করায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ তানজিম বলেন, “সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। যথাযথ জরিপ ও সীমানা নির্ধারণের পর উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩১ শতাংশ সরকারি জমি উদ্ধার হয়েছে।”
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।