ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে বৈধ মালিকানাধীন জমি জবরদখলের চেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
আজ (২১ জুন, রোববার) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী।
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান চৌধুরী দাবি করেন, তিনি গোয়ালচামট মৌজার এস.এ ১২০১ ও ১২০৩ নং দাগভুক্ত ২৪ শতাংশ জমির বৈধ মালিক। ২০০৯ সালে দলিলমূলে জমিটি ক্রয় করার পর থেকে তিনি ও তার পূর্বসূরিরা এটি ভোগদখল করে আসছেন এবং নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন। পারিবারিক ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে জমির মালিকানা হস্তান্তর হলেও বর্তমানে তিনি নিজেই এর আইনগত মালিক এবং এর স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিল, খতিয়ান ও পর্চাসহ যাবতীয় কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে।
তিনি জানান, উক্ত জমিটির মালিকানা নিয়ে বর্তমানে ‘ভিপি ইউসুফ’-এর ভাইদের সঙ্গে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, আদালতের বিচারাধীন মামলার রায় হওয়ার আগেই আইন অমান্য করে গত ১৭ জুন বিকেলে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জোরপূর্বক তার জমিতে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা জমিতে থাকা টিনের বেড়া ভেঙে ফেলে, বেশ কিছু মূল্যবান গাছ কেটে ফেলে এবং বেড়ার টিন খুলে নিয়ে যায়।
মিজানুর রহমান বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তি খাটিয়ে আমার বৈধ সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর ফলে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং নিজের সম্পত্তি ব্যবহার বা ভোগদখল করতে পারছি না।”
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে কার্যকর কোনো প্রতিকার বা আশ্বাস পাননি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন-
জমির মালিকানা সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা।
জমিটি অবিলম্বে জবরদখলমুক্ত করা।
প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিতকরণে আইনি সহায়তা প্রদান।
হামলা ও ভাঙচুরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের **নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।