ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের ছোট বাহিরদিয়া গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে সালথা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৬টার দিকে ছোট বাহিরদিয়া মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলার সময় অভিযোগকারীর ছেলে ছিয়াম মোল্যা (১৯) ও একই গ্রামের মুফতি শফিকুল ইসলাম এর ছেলে মুসার মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে বাহিরদিয়া মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতি ইমরান হোসাইন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে উভয় পক্ষকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওই ঘটনার জের ধরে একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুফতি শফিকুল ইসলাম, টোকন মাতুব্বর, রাসেল, মুসা, ইছা মাতুব্বর, নাজমুল, বক্কার, ফারুক মীর, নিটুল মাতুব্বর, জয়নাল ও হুমায়ুনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে অভিযোগকারীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বসতঘরের দরজা, জানালা ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলায় তার বসতঘরের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ঘরের সাববাক্সে রাখা নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরদিন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুফতি শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। আমি রাজাপুর মাদ্রাসায় ছিলাম। পরে শুনেছি বাহিরদিয়া মাদ্রাসার খেলার মাঠে একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি বাহিরদিয়া মাদ্রাসার ইমরান সাহেব ভালো বলতে পারবেন। আমি কোনোভাবেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। কে বা কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে, সেটিও আমি বলতে পারব না।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে একটি বাড়িতে হামলা ঘটনা শুনেছি এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।