হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও অগণতান্ত্রিক হুমকির প্রতিবাদ এবং সংগঠনের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে ফরিদপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। আজ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের মরহুম এডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেযবুত তওহীদের জেলা সভাপতি মো. রেজাউল করিম।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদ মোল্লা এবং ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান সুমনসহ ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সদস্য ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের নেতারা অভিযোগ করেন, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের নেতারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক, কুরুচিপূর্ণ ও হিংসাত্মক বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় হেযবুত তওহীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া ও দেশ থেকে উৎখাতের হুমকির পাশাপাশি সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নারীদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়। এছাড়া ফটিকছড়িতে উত্থাপিত ৯ দফা দাবির ৬ নম্বর দফায় হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার অন্যায্য দাবি জানানো হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও জানান, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ইন্ধনে অতীতেও হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ওপর একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় সংগঠনের দুইজন সদস্য নিহত এবং শতাধিক আহত হন। বর্তমানে সংগঠনটির হাজার হাজার সদস্যের পাশাপাশি নোয়াখালীতে অবস্থিত তাদের পরিচালিত স্কুল, হাসপাতাল, খামার ও পোশাক কারখানাসহ অর্ধশতাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সংগঠনটিকে একটি অরাজনৈতিক সংস্কারমূলক আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে নেতারা বলেন, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে হেযবুত তওহীদ শান্তিপূর্ণভাবে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ শতাধিক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হলেও গত ৩১ বছরে আদালতের রায়ে কোনো সদস্য দোষী সাব্যস্ত হননি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনটি বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—উসকানি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদকে উসকানিমূলক কাজে ব্যবহার বন্ধ করা, হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, উন্নয়ন প্রকল্প ও সদস্যদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় ও মতপ্রকাশের অধিকার বজায় রাখা। পরিশেষে বক্তারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিক সমাজকে উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।