ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আফছার মাতুব্বর এবং উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি বশির উদ্দিন মাতুব্বরকে দায়ী করে তাঁদের গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার কাগদী বাজারে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ আফছার মাতুব্বর ও বশির উদ্দিন মাতুব্বরের নেতৃত্বে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা থেকেই এসব ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মোহাম্মদ রাজিব হোসাইনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আফছার মাতুব্বরের ছেলে সোহেল মাতুব্বরের নাম উঠে এসেছে। এ ঘটনায় সোহেল মাতুব্বরকেও আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাই ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ সময় আফছার মাতুব্বর ও বশির উদ্দিন মাতুব্বরকে দ্রুত গ্রেপ্তার, সোহেল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত এবং মাঝারদিয়া ইউনিয়নে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি মোল্যা, সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম রিজু, উপজেলা যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাট, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির আহমেদ রাকিব, সহসভাপতি মোহাম্মদ রাজিব হোসাইন, মাঝারদিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহিদ মোল্লা, যুবদল নেতা ওয়াসিম মোল্লা, মিরান মোল্লা, মুঞ্জু মাতুব্বর ও মুকুল মাতুব্বরসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।