গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় কলা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মা ও ছেলেকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কুশলী ইউনিয়ন বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রইস শেখের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট রাতে মালেক বাজার কমিউনিটি সেন্টারের সামনে মিজান শেখের কয়েকটি কলাগাছ থেকে কলা চুরি যায়। এলাকায় পরপর আরও কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় জয় শেখসহ কয়েকজন দাবি করেন, তারা তিনজনকে রইস শেখের কলা কাটতে দেখেছেন।
মিজান শেখের অভিযোগ, পরে রইস শেখের বাড়ির গোয়ালঘরে তার চুরি যাওয়া কলা দেখতে পান তিনি। বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে রইস শেখ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখান বলে দাবি করেন তিনি।
এর কিছুদিন পর ঘোনাপাড়া থেকে ফেরার পথে মালেক বাজারের একটি দোকানের সামনে জয় শেখ ও তার মায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে মা-ছেলে আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের গোপালগঞ্জে এবং সেখান থেকে খুলনায় নেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
জয় শেখের বড় ভাই অভিযোগ করেন, কোনো কারণ ছাড়াই তার ছোট ভাই ও মাকে মারধর করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ছাড়া রইস শেখের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন তিনি। তার দাবি, রইস শেখের ভাগ্নে শাহরিয়াকে পুলিশ আটক করার পর তাকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলো অস্বীকার করে রইস শেখ বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। তার দাবি, জয় শেখ তার দোকানে চুরি করেছিল এবং তাকে হাতেনাতে ধরে মারধর করেন তিনি। শাহরিয়াকে পুলিশ আটক করেছে এবং তার কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন রইস শেখ।
রইস শেখ আরও বলেন, তার দোকানে পুলিশ গিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের তল্লাশি করে শাহরিয়ার কাছ থেকে সন্দেহজনক কিছু জিনিস পাওয়ার পর তাকে আটক করে।
এদিকে রইস শেখের সঙ্গে কথা বলার পর ‘অ্যাডভোকেট রুবেল’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, শাহরিয়াকে রইস শেখ পুলিশ দিয়ে আটক করাননি। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় ও বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার মোল্লা বলেন, দলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কদর শেখ বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করা হবে এবং ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন শেখও অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের কোনো নেতা অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে দল তার দায় নেবে না।
এ ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, বিষয়টি দলীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।