দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে। এতে মরিচা ইউনিয়নের ঝাড়মারাপাড়া গ্রামের ৮-১০টি পরিবারের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তা কেটে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ঝাড়মারাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাচ্চু মিয়াসহ কয়েকজন মিলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ কেটে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
স্থানীয় শাহজাহান আলী জানান, প্রায় এক শতাব্দী ধরে ঝাড়মারাপাড়া গ্রামের মানুষ কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন, বিদ্যালয়ে যাতায়াতসহ বিভিন্ন কাজে ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি রাস্তা কেটে দেওয়ায় এলাকাবাসী অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে বিষয়টি বীরগঞ্জ থানায় জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এবং রাস্তা কাটা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে রাস্তাটি কেটে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মোশারফ হোসেন রুবেল বলেন, ‘‘এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বাচ্চু মিয়া আদালতে মামলা করেও ক্ষান্ত হননি। এখন আমাদের একমাত্র চলাচলের রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন—এই দেশে কি আমাদের কোনো অধিকার নেই?’’
স্থানীয়রা জানান, রাস্তার বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলায় অর্ধশতাধিক মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রোগী, শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধদের নিয়ে বাইরে যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে বাচ্চু মিয়া রাস্তা কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘‘রাস্তাটি ব্যবহার করতে হলে এলাকাবাসীকে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। না হলে এদিকে রাস্তার কোনো প্রয়োজন নেই।’’
এদিকে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে রাস্তা কেটে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।