ফরিদপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ও কণ্ঠশিল্পী ফজলুর রহমান বাবুর পৈতৃক বাসভবন ‘কামরাঙ্গা’য় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। আশঙ্কাজনকভাবে এলাকাটিতে চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন এই গুণী শিল্পী।
গতকাল (সোমবার,২৪ আগস্ট) রাতে ঢাকায় অবস্থানরত এই অভিনেতা নিজ বাড়িতে বেড়াতে এসে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি স্থানীয় থানা-পুলিশকে অবহিত করেন এবং এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পেশাগত কারণে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও মাসে এক-দুইবার ফরিদপুরের এই পৈতৃক বাড়িতে আসেন ফজলুর রহমান বাবু। সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, চোরেরা পুরো বাসার বৈদ্যুতিক লাইন ও গ্যারেজের তার কেটে নিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বাসাবাড়ির ফ্রিজে থাকা খাবার ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ছাদে গিয়ে দেখা যায়, দুটি স্প্লিট এসি এবং এসি মেশিনের অভ্যন্তরীণ সব তামার তার কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
ফজলুর রহমান বাবু জানান, প্রায় ছয়-সাত মাস আগেও একইভাবে তাঁর বাসার বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়েছিল চোরেরা। তিনি বলেন, “শুধু আমার বাসাতেই নয়, আশপাশের প্রায় প্রতিটি বাড়ি থেকেই নিয়মিত এসি, তার ও গ্যারেজের সরঞ্জাম চুরি হচ্ছে। একসময় পশ্চিম আলীপুর অত্যন্ত শান্ত ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটিতে চোর চক্রের উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাড়িতেও সম্প্রতি চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানে তার কাটতে গিয়ে ‘স্বপন’ নামে এক চোর হাতেনাতে ধরা পড়ে এবং চুরির সত্যতা স্বীকার করে।
এসব ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কেবল পুলিশি তদারকি দিয়ে এই সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব নয়; এলাকাকে নিরাপদ করতে মাদকসেবীদের দমন এবং অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি