ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতা ও গ্রাম্য বিরোধের জেরে সুমন শেখ (৩০) নামের এক কলেজছাত্রকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত সুমন শেখ বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি স্থানীয় এম এ খালেক কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে গ্রাম্য কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সুমন শেখ মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথে বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকার উকিল শেখের বাড়ির সামনে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে সুমনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর জখম অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে পার্শ্ববর্তী কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ও তাদের সমর্থকেরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। নতুন করে কোনো সহিংসতা যেন না ঘটে, সেজন্য গ্রামে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”